পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়ার হিড়িক

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যাওয়ার হিড়িক

আন্তর্জাতিক
পশ্চিমবঙ্গের সর্বশেষ বিধানসভা নির্বাচনের আগে আগে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার হিড়িক পড়েছিল। মন্ত্রী-সাংসদ-বিধায়ক-কাউন্সিলর-পঞ্চায়েত প্রধান থেকে শুরু করে দলের সাধারণ কর্মী-সমর্থকরাও সে সময় বিজেপিতে গিয়েছেন। দলবদলের হিড়িক দেখে তৃণমূলবিরোধীরা কটাক্ষ করতে শুরু করেন যে দলটির অস্তিত্ব থাকবে কি না।

তবে গত ২ মে ভোটের ফল বের হয়। তাতে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে তৃতীয়বারের মতো রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল। এরপর সরকারও গড়ে তারা। তারপরই উল্টে যায় পরিস্থিতি। হিড়িক পড়ে বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার। বিজেপির লক্ষ্য ছিল বিধানসভা নির্বাচনে ২০০ আসন পার করে ক্ষমতায় আসার। আসন সংখ্যা বাড়াতে বাবুল সুপ্রিয়, লকেট চ্যাটার্জি, স্বপন দাশগুপ্ত, জগন্নাথ সরকার, নিশীথ প্রামাণিকসহ কয়েকজন সাংসদকে দাঁড় করিয়ে চমক দিয়েছিল গেরুয়া শিবির। কিন্তু ক্ষমতায় আসা তো দূরের কথা, মাত্র ৭৭ আসনে জয় পেয়েই তাদের বিজয় রথ থমকে যায়।

সরকার গঠনের স্বপ্ন বাস্তবায়িত না হওয়ায় দল থেকে বিধানসভা নির্বাচনে জয়লাভ করা দুই সাংসদ জগন্নাথ ও নিশীথকে তাদের বিধায়ক পদ ছাড়তে বলা হয়। ফলে জগন্নাথ সরকার শান্তিপুর ও নিশীথ প্রামাণিক দিনহাটার বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে সাংসদ পদে বহাল থাকেন। আর বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমে ৭৫ হয়। এরপর জুন মাসেই পুত্র শুভ্রাংশু রায়কে সঙ্গে নিয়ে পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে যান মুকুল রায়।

তৃণমূলের একসময়ের নাম্বার-টু মুকুল চার বছর আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। বাবার দেখানো পথেই তৃণমূল ছেড়েছিলেন পুত্র শুভ্রাংশুও। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে রাজ্যে বিজেপির ১৮টি আসন জয়ের পেছনে মুকুলের অবদান ছিল সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি বিধানসভা নির্বাচনে সেই মুকুলকেই কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্রে দাঁড় করায় বিজেপি। অন্যদিকে বিজপুর কেন্দ্রের প্রার্থী হন শুভ্রাংশু। তবে মুকুল জিতলেও পরাজিত হন শুভ্রাংশু। নির্বাচনে জিতলেও মুকুলের সঙ্গে বিজেপির দূরত্ব বাড়তে থাকে। অবশেষে ফল প্রকাশের এক মাসের মধ্যে মুকুল তৃণমূলে ফেরেন। বিজেপির বিধায়কের সংখ্যা কমে হয় ৭৪।

মুকুল তৃণমূলে ফিরতেই বিজেপির অন্দরে ভাঙনের আশঙ্কা আরও তীব্রতর হয়। প্রায় চার মাস পর গত সোমবার ৩০ আগস্ট আচমকাই তৃণমূলে যোগ দেন বিজেপি বিধায়ক তন্ময় ঘোষ। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা কমে দাঁড়ায় ৭৩-এ। ৩১ আগস্ট তৃণমূলে যোগ দেন বাগদার বিজেপি বিধায়ক বিশ্বজিত দাস। বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ফের একবার কমে এখন ৭২-এ দাঁড়িয়েছে।

সূত্রের খবর, বেশ কয়েকজন বিজেপি বিধায়ক তলে তলে তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *